বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩

নিরব বোশেখ : আবুল বাশার শেখ

ছোট্ট বেলার বোশেখ মাস হারিয়ে গেছে ওরে,
স্মৃতিকথায় বৈশাখটা ভাসে মনের ঘরে।
হারিয়ে গেল কোথায় রে ভাই নবান্ন উৎসব
বোশেখ মাসের গ্রাম-গঞ্জের আনন্দ কলরব।
পান্তা ইলিশ স্বপ্ন এখন বাজার বেজায় চড়া
আগের মতো হয় না খাওয়া শাক সব্জির বড়া।
জারি সারি বাউলের গান হারিয়ে গেছে দূরে
ঘোড়া দৌঁড়-লাঠি খেলা আসেনা বছর ঘুরে।
আগের মতো গাঁয়ের বধূ পড়েনা নতুন শাড়ি
আনন্দ আর উল্লাস করে যায় না বাড়ি বাড়ি।
জাতি বর্ণের ভেদাবেদ ভুলে পিঠা পুলির ধূম
পালা গানের যাদের সুরে হারিয়ে যেত ঘুম।
রূপ কথার গল্প কথা বলে না নানি খালা
ভোর বেলাতে হয় না গাঁথা বকুল ফুলের মালা।
নতুন বছর তবুও নতুন আসে বছর বছর
এক সাথে মিশে কাটাই বোশেখ সকাল দুপুর।

বুধবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১২

ঠিকানা : আবুল বাশার শেখ

গভীর রাতের ভালবাসায় হারিয়ে গেছে চঞ্চলতা
দিনের আলোতে ক্লান্তি আসে হারায় মনের সরলতা।
বনের পাখির গানের কথায় মন হারিয়ে সরলতায়
একা একাই ভাবতে থাকি চলার পথে যাচ্ছি কোথায়!
আপন ভেবেছি যাকে আমি সেই তো হয়েছে পর
সুখের সংসার তার হয়েছে আমার হয়নি ঘর।


‘প্রেম ভালবাসা’ কতটুকু প্রিয় নিজের কাছে প্রশ্ন করি
বিরহ প্রেমের কাব্য লিখে মিছেই ডাইরী ভরি।
সারা জীবন মানবতা নিয়ে ভেবেছি এবং লিখেছি
প্রতিদানে তার সমাজ থেকে কেইবা বলেন পেয়েছি!
তবুও চলছে কলম আমার চলবে আরও অজানা
কবি আমি কবিতা লিখি কাব্য আমার ঠিকানা।

ঈদ ও খুশির দিন : আবুল বাশার শেখ

আজ কান্না ভুলে হাস
আজকে খুশির দিন,
খোদার অশেষ দয়া
হয় না কভু মলিন।
ঈদের খুশির বন্যা
বইছে চারিদিক,
খোদার দেয়া বিধান
একমাত্র সঠিক।
কুরবান কর প্রিয় পশু
পালিত হলে তো উত্তম,
রক্ত মাংস যায় না
নিয়ত মুক্তির মাধ্যম।
প্রতিবেশীর যতটুকু হক
দিয়ে দাও খুশি মনে,
রাসূল করবে শাফায়েত
কঠিন বিচার দিনে।
কুরবানী কর নিজের আত্মা
খুশি হবে দয়াবান,
জীবন-মরন, ধন সম্পদ
সবই আল্লাহর দান।

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

ক’জন পায় বল এমন জীবন / আবুল বাশার শেখ

 (নন্দিত কথা সাহিত্যিক হমায়ুন আহমেদকে উৎসর্গীত )

 চোখ থেকে অশ্রু ঝরিয়ে কি লাভ বল!
 সময় হলো তো থাকার উপায় নেই
 ফিরে যেতে হবে আপন ঠিকানায়, না ফেরার দেশে
 পাথরের উপর আঘাত করে আগুন পাওয়া যায়
 কিন্তু পাথরের জীবন দেয়া যায় না।
 চোখের দেখায় যাকে ভাল লাগে
 কর্মের দিক থেকে তাকে ভাল নাও লাগতে পারে
 কিন্তু দু’দিক থেকেই যাকে ভাল লাগে
 তাকে ভুলবে কি করে বলো!
 কখনো যায় না ভুলা।
 যে হিমুর আগমন হলো বাংলা সাহিত্যাকাশে
 সে কি করে মরবে বলো!
 এক যুগ নয় হাজার যুগেও মরবে না সে
 অন্ধকারে নক্ষত্রের আলো হয়ে দূর আকাশে
 জ্বলতেই থাকবে আজন্ম।

দীর্ঘ নক্ষত্র / আবুল বাশার শেখ

 (শ্রদ্ধেয় প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদকে নিবেদিত )
বাংলা সাহিত্যকাশে একটি নক্ষত্রের হঠাৎ চলে যাওয়া
কোন ব্যকরণ মানছে না, মানছে না মনের লুকানো ভালবাসা
গোপন পরিধিতিতে থাকতে। সবটুকু ভালবাসা আজ প্রকাশিত
কেননা একজন মানুষ চলে গেলেন না শুধু
কাঁদিয়েও গেলেন সবাইকে।
অন্ধকার রাতে নিভে গেল নক্ষত্রের আলো যদিও কামনা ছিল
এই নক্ষত্রের আলো আমরা আরও দেখবো এই বাংলায়।
একটু তাকাই না ফিরে পেছনে এইতো অনেক আলো
তীব্র সূর্যের চেয়েও বেশি আলো আমাদের মাঝে

যে আলো ফুরাবেনা, যুগ যুগ থাকবে মানুষের অন্তরে।